১ মাসে ১০ কেজি ওজন কমানোর ওয়াটার থেরাপি পদ্ধতি জেনে নিন!

শরীরে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই ওজন বৃদ্ধি পায়। শরীরে চর্বি জমা শুরু করলে তা স্বাস্থ্যে বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগ সৃষ্টি করে। তাই ওজন কমানোর প্রথম ধাপই হচ্ছে শরীরকে দূষণমুক্ত করা। শরীরকে বিশুদ্ধ বা দূষণমুক্ত করে ওজন কমাতে চাইলে তখন যে খাবারই খাবেন তা অবশ্যই শরীরের জন্য উপকারী হতে হবে এবং সেই সাথে তা দেহের দূষণ দূর করার ক্ষমতা থাকতে হবে।এজন্য অবশ্যই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় তরলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

পানি পানেই কমবে ওজন:
পানির অপর নাম জীবন একথা আমরা সবাই জানি। শরীরের জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা যাবে না। দেহকে ডিহাইড্রেশন থেকে দূরে রাখতে, সর্বদা তরতাজা থাকতে সবসময় পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। দেহের মেদ কমাতেও কিন্তু এই পানি বেশ উপকারি।

হ্যাঁ, পানি পান করেন ওজন কমানো যায়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এমনই পানি থেরাপির আবিষ্কার ক হলো জাপান। দীর্ঘকাল ধরেই ওজন কমানোর উপায় হিসেবে জাপানীরা পানির ব্যবহার করে আসছে। অনেকেই জানেন, গরম পানির সঙ্গে লেবু আর মধু মিশিয়ে খীল ওজন কমে। তবে জাপানীদের “ওয়াটার থেরাপি” কিন্তু এর থেকে আলাদা-

চলুন জেনে নেওয়া যাক উপকারী এ ওয়াটার থেরাপির নিয়ম-

● সকালে খালি পেটে চার থেকে পাঁচ গ্লাস পানি পান করতে হবে। এতে করে দেহে জমে থাকা টক্সিন দূর হয়ে যাবে।

● দাঁত ব্রাশের পর অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পানি ছাড়া কিছু খাওয়া যাবে না।

● প্রতিদিন এক সময়েই খাবার খেতে হবে। খাওয়ার পর কোনোভাবেই দুই ঘণ্টা পানি পান করা যাবে না।

● শরীরে কোনো সমস্যা না থাকলে বা অভ্যাস না থাকায় শুরুতেই হয়ত অনেকে চার গ্লাস পানি একবারে খেতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পানির পরিমাণ বাড়ান।

● থেরাপি চলাকালীন সময় পানি বা অন্য যেকোনো খাবার কখনোই দাঁড়িয়ে খাবেন না।

ওয়াটার থেরাপির উপকারিতা-

ওয়াটার থেরাপি শুরু করার কয়েক দিনের মধ্যেই ফল পেতে শুরু করবেন। চিকিৎসকদের মতে, এই থেরাপির ফলে দেহের বিপাকের হার বৃদ্ধি পাবে। ফলে সঠিকভাবে কাজ করবে পরিপাকতন্ত্র। ফলাফলস্বরূপ, স্বাভাবিক ভাবেই শরীর থেকে ঝরে যাবে অতিরিক্ত মেদ।

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হওয়ায় এই থেরাপিতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তো, কবে থেকে শুরু করছেন এই থেরাপি?

ওজন কমাতে গরম পানি, না-কি ঠাণ্ডা?

১। কোনটি স্বাস্থ্যকর: গরম না-কি ঠাণ্ডা?
বলা হয় জীবনের ওপর নাম পানি। উপাদানটি কেবল জীবন বাঁচায় তা নয়, শরীর উপযুক্ত রাখতে পানি হলো সবচেয়ে সহজলভ্য যা কেবল বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে তা নয়, ওজন হ্রাসেও সহায়তা করে।

ক্যালোরিমুক্ত এই উপাদান শরীরের ক্যালোরি ধ্বংস করতেও সাহায্য করে। কিন্তু পানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভেতর একটি প্রশ্ন, গরম কুসুম গরম না-কি ঠাণ্ডা- ওজন হ্রাসের জন্য কোনটি ভালো?

২। পানি ও ওজন হ্রাস
পানীয় জল কেবল আপনার তৃষ্ণা মেটাবে তা নয়, এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতেও সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের আগে পানীয় জল ক্ষুধা কমাতে পারে এবং একইভাবে পরোক্ষভাবে ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এটি প্রমাণিত যে গরম পানি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে বিপাকে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে গরম পানি পান করলে ঘুমের সময় শরীরে তরল পদার্থের যে ঘাটতি তৈরি হয় তা পূরণে সাহায্য করে। যদিও আমরা জানি যে উষ্ণ পানি পান করলে ওজন কমাতে সাহায্য করে, তবে ঠাণ্ডা পানি এবং কুসুম গরম পানি ওজন কমাতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

৩। কেন গরম পানি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানির তাপমাত্রা হজম প্রক্রিয়ার পর চটচটে বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে। এতে আপনি হালকা বোধ করেন এবং হজম প্রক্রিয়াকে মসৃণ করে তোলে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, প্রতিদিন সকালে গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীরের ক্যালোরি খরচ হয়। ফলে ওজন কমে।

৪। ঠাণ্ডা পানি ও ওজন হ্রাস
কিছু গবেষণায় ঠাণ্ডা পানি পানের উপযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যখন আমরা ঠাণ্ডা পানি পান করি, তখন আমাদের শরীর অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ করে দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অনুযায়ী পানি গরম করে। ফলে শরীরের চর্বি ঝরে যায়।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন পরিচালিত গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি পান করার পর মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অনুযায়ী তা গরম করতে শরীরের আট ক্যালোরি খরচ হয়। সেই হিসেবে দৈনিক আট গ্লাস পানি পান করলে খরচ হয় ৬৪ ক্যালোরি। এটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে ঠাণ্ডা পানি পান করলে কিছু শারীরিক ক্রিয়াকলাপ দ্বারা বাড়তি ক্যালোরি খরচের পরামর্শ দেওয়া হয়।

৫। কেন কুসুম গরম পানি ভালো?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কুসুম গরম পানির কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এটি কেবল ক্যালোরি খরচ করে তা-ই নয়, বাইরের যে কোনো তাপমাত্রায় এটি পান করা যায়।

৬। যথেষ্ট পানি পানের ধারণা
যদি আপনি কেবল পানি পানের মাধ্যমে শরীরের ওজন হ্রাস করতে চান তবে আপনাকে সারা দিন যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করতে হবে। যদিও দিনে আট গ্লাস পানি শরীরের জন্য ভালো। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার শরীরের যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন তা নির্ভর করে আপনার ওজন এবং কার্যকলাপের স্তরের ওপর। সুতরাং, নিশ্চিত হন, আপনার শরীরের ওজন অনুযায়ী আট গ্লাসের বেশি প্রয়োজন আছে কি-না। যদি প্রয়োজন থাকে তবে আপনাকে তরমুজ, স্ট্রবেরি এবং লেবু শসা ইত্যাদি খেয়ে সেই অভাব পূরণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *